করোনাঃ আক্বীদা ও আমল,
মুসলমানরা
বিশ্বাস করি- b
১. আল্লাহর
প্রতি,
২.ফেরেস্তাগনের
প্রতি,
৩.আসমানী
কিতাব সমূহের প্রতি,
৪.রাসুল
গনের প্রতি,
৫.শেষ
বিচারের দিনের প্রতি,
৬. তাক্বদীরের ভাল ও মন্দ আল্লাহর পক্ষ
থেকে হয় তার প্রতি
৭. মৃত্যুর
পর পুনরায় (হাশরের ময়দানে) পুরুত্থিত হওয়ার প্রতি।
এই সাত
বিষয়ের প্রতি পুরোপুরি বিশ্বাস (ঈমান) না থাকলে তার আক্বীদায় সমস্যা রয়েছে বলে প্রতিয়মান
হবে।
এর মধ্যে
৬নং তাক্বদীরের ভাল ও মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে
হয় তার প্রতি বিশ্বাস একটি জরুরী বিষয়।
ওলামায়ে
কিরামগন বলেন, তাক্বদীর প্রধানত ২ প্রকার-
১. তাক্বদীরে মুবরাম/মুকাদ্দার,
২. তাক্বদীরে
মুয়াল্লাক।
তাক্বদীরে মুবরাম/ মুকাদ্দারঃ ঘটবেই এরকম সব বিষয়,যা পৃথিবীর কোন শক্তি ফেরাতে পারবে না।
তাক্বদীরে
মুয়াল্লাকঃ ঝুলন্ত বিষয়, যা ভাল আমলের দ্বারা আল্লাহর কাছে দো‘আ করলে আল্লাহ রাব্বুল
আলামীন বদলে দিতে পারেন।
আমার মত সাধারণ লোকের জন্য তাক্বদীর সম্প©©́কে বেশী চিন্তা না করাই ভালো। মূল কথা হলো-জন্ম, মৃত্যু,বিয়ে,রিজিক ইত্যাদি তাক্বদীরে তাকলেও এগুলো সবই আল্লাহর হাতে,অথা́ৎ আমরা জানি না কোনটা মুকাদ্দার আর কোনটা মুয়াল্লাক (যদি জানতাম তবে তো কাজ বা আমল করা ছেড়ে দিতাম,এজন্য আল্লাহ বিষয় গুলো গোপন রেখেছেন)।
কারো মৃত্যু যদি করোনা ভাইরাসে লিখা থাকে আর যদি তা তাক্বদীরে মুকাদ্দার হয় তবে কে আছে ঠেকাবে।
আর যদি
তাক্বদীরে মুয়াল্লাক হয় তবে চিকিৎসা,আমল, দোআ ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহ চাইলে সুস্থ্য
করে দিবেন।
আর যদি
করোনা ভাইরাসে মৃত্যু লিখা না থাকে তবে এ ভাইরাস আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, ইনশা
আল্লাহ।
কবি বলেন-
মাইউস
নাহো আহলে জমীন আপনি খ্যতা ছে,
তাক্বদীর
বদল যাতি হ্যায় মাযতর কি দোআ ছে।
অথ́: পাপী তাপী বান্দা যেন নিরাশ না
হয়,তপ্ত প্রাণের দোআর দ্বারা তাক্বদীরও বদলায়।
এক কথায়:
তাক্বদীরে যা কিছু ঘটে আমাদের ভালোর জন্যই ঘটে। আল্লাহ বান্দাকে অনেক বেশি ভালোবাসেন।কোন
মায়ের চেয়ে বহুগুন বেশি,কিংবা কোন বাবার চেয়ে,বা কোন বন্ধুর চেয়ে...
যারা ইতিমধ্যেই
পিতা হয়েছেন, বা মা হয়েছেন তারা জানেন তার সন্তানকে তিনি কত ভালবাসেন। মহান আল্লাহ
তার ভালবাসার ভান্ডার থেকে এক চিলতে বা এক চিমটি ভালবাসা পুরো পৃথিবীতে দিয়েছেন। সে
এক চিমটির মধ্যে আমি বা আপনি কত টুকুই বা ভাগে পেয়েছি। সেটার জোড়ে আমরা পৃথিবিতে কত
কি করছি। এমন কি একজন অন্য জনের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত। তা হলে যিনি বিশাল থেকে
বিশাল ভালোবাসার ভান্ডার ধারন করে আছেন, মহান আল্লাহ, তিনি তার বান্দাকে কত বেশি ভালোবাসেন?
পাকিস্তানের
চীফ জাস্টিজ, প্রধান বিচাপতি, মুফতি তাকী ওসমানি। যিনি অনেক বড় আল্লাহ ওয়ালা। বহু কিতাব
তিনি লিখেছেন। তিনি বলেন- আমার এক পরিচিত ব্যক্তি যিনি খুবই ধম́ ভীরু ও আল্লাহ ওয়ালা। স্বপ্ন যোগে
রাসুল সা: কে দেখেছেন, রাসুল সা: তাঁকে বলছেন বত́মান পরিস্থিতি থেকে রক্ষার জন্য নিম্নোক্ত আমল করলে আল্লাহ তাকে রক্ষা
করবেন। আমলটি হল:
১.সুরা
ফাতিহা (আল হামদু)-৩বার
২.সুরা
ইখলাছ (কুলহু আল্লাহু আহাদ)- ৩বার
৩. হাসবুনাল্লাহি
ওয়া নিমাল ওয়াকিল,নিমাল মাওলা ওয়া নিমান্নাছির-৩১৩ বার
আর আজকে
যারা সচেতন হতে বলছেন, শিষ্টাচার মেনে চলতে বলছেন, তাদের জানা উচিত 1442 বছর আগে বিশ্বমানবতার
মুক্তির দূত রাসুলে আকরাম সা: তা শিক্ষা দিয়েছেন। তাই আমার মতে, রাসুল সা: এর দেখানো
এবং শিখানো জীবন যাপন প্রণালি অনুসরন ও অনুকরণের দ্বারা দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত ক্ষতি
হতে নিরাপদ থাকা যাবে, ইনশাআল্লাহ।
রাসুলের
শিক্ষা-পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধৌত করা,হাছি, কাশি
বা হাই উঠলে বাম হাতের কব্জি মুখে ধরা, পেট খালি রেখে খানা খাওয়া,ফলমুল ধুয়ে খাওয়া,
টয়লেটে ঢিলা,প্রসাবে কুলুখ,টয়লেট শেষে সাবান,মাটি বা ছাই দ্বারা হাত ধৌত করা,তিন শ্বাসে
পানি পান করা, বসে পানি পান করা, ডান কাতে শয়ন করা, ঘুমানোর আগে ও পরে মেসওয়াক বা ব্রাশ
করা,খাবার ঢেকে রাখা ইত্যাদি ইত্যাদি। (অন্য কোন দিন সুন্নত ও তার ব্যবহারিক সুবিধা
নিয়ে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ)।
আমার মনে
হয় করোনা মুসলিম ও নন মুসলিম সকলের জন্য গজব।
মুসলমানদের
ক্ষেত্রেঃ মুসলমান যখন কোন দেশে নির্যাতিত হন তখন অন্য মুসলমানগন আমরা ঘরে বসে দেখি।
কোন প্রতিবাদ বা পদক্ষেপ নিতে চাইনা এমনকি মনে প্রাণে অত্যাচারীদের ঘৃনাও করিনা। যা
কিনা ঈমানের শেষ স্তর। বরং নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে থাকতে চাই।তাই হয়ত আল্লাহ
এমন গজব দিলেন যে মরার ভয়ে ঘরে বসে আছো, এখন ঘরেই মর।
নন মুসলিমদের
ক্ষেত্রেঃ নন মুসলিমরা মুসলিমদের প্রতি যে অত্যাচার করছে, সে জুলুমের প্রতিদান হিসাবে
করোনা।
সবশেষে বলতে চাই, আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন,আমাদের
ঈমানের পরীক্ষা নিয়েন না,আর পুরো পুরি মুসলমান না করে কবরে ডাক দিয়েন না।আমীন।
ভূলত্রুটি
সবাই ক্ষমা করবেন.....
No comments:
Post a Comment